ত্বকে কোলাজেন বাড়াতে ১০ টি খাবার

ত্বকে কোলাজেন বাড়াতে ১০ টি খাবার

আমাদের ত্বকের কোমলতা ও টান টান ভাব ধরে রাখার কাজটি করে কোলাজেন নামের প্রোটিন। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বছর এই কোলাজেন তৈরির পরিমাণ কমতে থাকে। এর কারণে ত্বক কুঁচকে যেতে শুরু করে এবং ত্বকে বয়স বৃদ্ধির ছাপ বোঝা যায়।


ইদানীং ত্বকে কোলাজেন বাড়াতে, কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট গ্রহন করছে অনেকে। তবে সাপ্লিমেন্টের চেয়ে, আরো বেশী ভালো হয় যদি আপনি ত্বকে কোলাজেন বাড়ায় এমন সব খাবার গ্রহন করেন। আসুন জেনে নেই কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার কোনগুলো-


মাছ-

মাছের কাঁটা ও লিগামেন্ট কোলাজেন দিয়ে তৈরি। তাই মাছে থাকা এই কোলাজেন ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং টানটান ভাব ধরে রাখতে ভালো কাজ করে। এজন্যই জাতিগতভাবে যেসব অঞ্চলের মানুষেরা মাছ খান, তাদের ত্বক সহজে বুড়িয়ে যায় না।


ভিটামিন সি যুক্ত ফল-
কোলাজেন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ভিটামিন সি। ত্বকের কোলাজেন ধরে রাখার জন্য সকালের নাস্তায় বা সালাদে নিয়মিত তাই ভিটামিন সি যুক্ত ফল যেমন কমলা, আঙুর, লেবু খেতে পারেন।পেয়ারা খেতে পারেন এতে আছে জিংক, যা কোলাজেন তৈরির জন্য অণুঘটক হিসেবে কাজ করে।


ডিমের সাদা অংশ-

ডিম খাবেন। ডিমের সাদা অংশে থাকে প্রচুর পরিমাণে প্রোলিন নামের এক ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড। এটি কোলাজেন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন হয়।


মুরগীর মাংস-

মুরগীর মাংস প্রচুর প্রোটিনে সমৃদ্ধ তাই বেশিরভাগ কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট তৈরি করা হয় মুরগীর মাংস থেকে। মুরগীতে প্রচুর পরিমাণ কানেক্টিভ টিস্যু থাকে। এই টিস্যুগুলোই কোলাজেনের প্রধান উৎস। এছাড়া মুরগীর হাড়ে থাকা কোলাজেন আমাদের হাঁড়ে ব্যথা আর শরীরের জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে।


রসুন-

খাবারের স্বাদ বাড়াতে আমরা রসুন ব্যবহার করি, এই রসুনই কোলাজেন প্রোডাকশনের জন্য বুস্টার হিসেবে কাজ করে। রসুনে আছে প্রচুর পরিমাণে সালফার। এটি কোলাজেন সমন্বয় করতে ও ভেঙে যাওয়া থেকে সুরক্ষা দেয়। প্রতিদিনের ডায়েটে ২ বা ৩ কোয়া রসুন খেলেই যথেষ্ট।


বিনস-

বিনস উচ্চ মাত্রার প্রোটিনযুক্ত খাবার, এতে লাইসিন নামের অ্যামাইনো অ্যাসিড আছে যা কোলাজেনের সমন্বয়ের জন্য বেশ জরুরি। এছাড়াও এতে আরও আছে কপার। এটিও কোলাজেন উৎপাদনের জন্য উপকারী একটি উপাদান।


সবুজ শাকসবজি-

সুস্বাস্থ্যের জন্য সবুজ শাকসবজি খাওয়া এমনিতেই জরুরি। সেই সঙ্গে এতে থাকে ত্বকের নানা উপকারিতা। পালং শাক, সবুজ সবজি থেকে ক্লোরোফিল পাওয়া যায়, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের খনি হিসেবে পরিচিত। এটি ত্বকের কোলাজেন বাড়ানোর জন্য খুব ভালো কাজ করে।


টমেটো-

টমেটোতে আছে ভিটামিন সি। কোলাজেন গঠনের জন্য এতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর উপাদান আছে। এতে পর্যাপ্ত মাত্রায় লাইকোপেন আছে, যা ত্বকের সুরক্ষায় শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।


কাজু বাদাম-

কাজুবাদাম এ আছে প্রচুর পরিমাণে জিংক ও কপার, যা শরীরের কোলাজেন বাড়ানোর জন্য খুব ভালো কাজ করে।


ক্যাপসিকাম-

টমেটো দিয়ে যদি সালাদ বা স্যান্ডউইচ বানান, তাহলে তাতে কিছু ক্যাপসিকামও যুক্ত করুন। এই সবজি ভিটামিন সি ও ক্যাপসাইসিন নামের অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি উপাদানে ভরপুর থাকে। এটি কোলাজেন কমে যাওয়া রুখে দেয় ও ত্বকের ক্ষতি হওয়ার হাত থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখে।

 

কোলাজেন বাড়ানোর জন্য এই খাবারগুলো খাওয়ার পাশাপাশি, মিষ্টি জাতীয় ও কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার যেমন- সাদা পাউরুটি বা পেস্ট্রির মতো খাবার এড়িয়ে চলবেন, কারণ এতে কোলাজেন তৈরি হওয়ার প্রবণতা কমে যায়।